বাংলা ভাষার টিকে থাকার লড়াই - একটি অনুসন্ধান
মে ২৪, ২০২৩

৪৯২ তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার

বিষয়: বাংলা ভাষার টিকে থাকার লড়াই--একটি অনুসন্ধান 

বক্তা:  কাজল রশীদ শাহীন

তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

অবহেলা, নিগ্রহ, নিপীড়নের ভেতর দিয়ে বাংলা ভাষার যাত্রা শুরু হয়। ‍সৃষ্টির পর থেকে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাকে টিকে থাকতে হয়েছে । আর্থ সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষার লড়াই সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় সেসময়ে রচিত কবিতা থেকে। চর্যাপদের কবি ভুসুকের কাব্য, 

“আজি ভুসুক বঙ্গালী ভঈলী

ণিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী”

মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিম বলেন,

“যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী

সে সব কাহার জন্ম না জানি”

উৎপত্তির পর দীর্ঘ সময় অতিক্রম করেছে বাংলা ভাষা। কিন্তু বিকৃত রূপ থেকে এখনো মুক্তি  মেলেনি। বাংলা ভাষা যারা ব্যবহার করেন, তারাও এর বিশুদ্ধ রূপ সম্পর্কে অবগত নন। ফলে বাড়ছে বাংলা ভাষার ভুলের ছড়াছড়ি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এসে বাংলা ভাষা ক্রমাগত কোণঠাসা, বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাকে চর্যাপদের যুগের অবস্থা বরণ করে নিতে হবে।

বর্তমানে বাংলা-ইংরেজির মিশ্রণে জগাখিচুরি ভাষার বিশ্রীরকম বিস্তার ঘটেছে। মোবাইলে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ ক্ষুদে বার্তা আদান প্রদান করে ইংরেজি হরফে বাংলা লেখে। বাংলা ভাষা বলতে পারলেও লিখতে, পড়তে ও বুঝতে না পারা এক প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। বাংলা শব্দ প্রয়োগের বৈচিত্র্য সম্পর্কে অবগত না হলে এর শুদ্ধতা দূরপরাহত।

বাংলা ভাষার টিকে থাকার লড়াইকে সার্থক, অর্থবহ করে তুলতে হলে এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে। এজন্য একদিকে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে, পাশাপাশি প্রয়োজন বাংলা ভাষার ইতিহাসকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানো।

Recorded Lecture: https://www.youtube.com/watch?v=VocWycyNGSo

cross-circle