
৪৮৬ তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার
বিষয়: সুপ্রিমকোর্টের অজানা ইতিহাস
বক্তা: আরিফ খান
তারিখ: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩
মধ্যযুগে বিচারের ক্ষমতা ছিল রাজার। তারা নিজেদের দাবি করত ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে। কেননা পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্ব কারো বিচারের ক্ষমতা ছিল না, কাউকে কেউ প্রাণনাশের নির্দেশ দিতে পারে না। সেসময় রাজা নিজেই রাজ্যের যাবতীয় বিচারকার্য সমাধা করতেন। কিন্তু যুদ্ধ-বিগ্রহের সময় বিচারের দায়ভার অর্পণ করা হতো বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তির উপর। রাজকার্য থেকে বিচারকার্য পৃথক হওয়ার এই ধারণা থেকেই সুপ্রিমকোর্টের উৎপত্তি।
রাষ্ট্রের নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় সুপ্রিমকোর্ট অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে। দায়িত্বের এমন প্রকৃতির কারণে সুপ্রিমকোর্টকে সুপ্রিম বলা হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর ১৯৭২ সালে তৈরি করা হয় সংবিধান, যেখানে সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের চমৎকার সমন্বয় সাধন করা হয়। বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের দুইটি বিভাগ রয়েছে: হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক সুপ্রিমকোর্ট। এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ কাঠামো। সুপ্রিমকোর্টের দৈনন্দিন কাজের অন্যতম হলো নিম্ন আদালতের আপিল শোনা। দেশের ৬৪ জেলা জজ কোর্টে নিষ্পত্তিকৃত মামলায় কোনো ধরণের ভুল আছে কি না তা খতিয়ে দেখা। সুপ্রিমকোর্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রিট মামলা। প্রাপ্য মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হলে জনগণ সুপ্রিমকোর্টে রিট করতে পারেন। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের জাস্টিস বলা হয়। বর্তমানে প্রায় ৮০ জন জাস্টিস রয়েছেন।
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টকে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা- বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ও বাংলাদেশ হাইকোর্ট। সেসময় দুইটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে হিসেবে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে। ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ দেশের সাত জেলায় হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করেন। সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাঁধা আসে ১৯৮২-৮৪ সালে। চারজন বিচারপতিকে এসময় কোনো কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়।