
৪৯০ তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার
বিষয়: শুদ্ধাচার কৌশলপত্র: দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা
বক্তা: বাহরাম খান
তারিখ: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
বাংলাদেশের অগ্রগতির পথে অন্যতম অন্তরায় দুর্নীতি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর শুদ্ধাচার কৌশলপত্র নামে একটি দলিল মন্ত্রীসভায় অনুমোদন লাভ করে। রাষ্ট্রীয় এবং অ-রাষ্ট্রীয় ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই দলিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান, আইন, রীতি-নীতি ইত্যাদির মধ্যে দুর্নীতি থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২০.২ অনুচ্ছেদে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে মূল্যবান নীতি বিবৃত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির আয় যা তার শ্রম দিয়ে উপার্জিত নয়, তা তিনি ভোগ করতে পারবেন না। অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলও দুর্নীতি প্রতিরোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু দুর্নীতি মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জায়গায় রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। একারণেই প্রয়োজন পড়ে শুদ্ধাচার কৌশলপত্র প্রণয়নের। কিন্তু কৌশলপত্র প্রণয়ন হলেও কার্যকর প্রয়োগ হয়নি।

শুদ্ধাচার কৌশলপত্রে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং প্রতি দুই বছর পরপর সদস্যদের নিয়ে বৈঠকের বিধান রাখা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাত বছর লেগে যায় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে। এমনকি নিয়মিত বৈঠকের বিধান থাকলেও মানা হয় না। ফলে কৌশলপত্র বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কীভাবে হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে জনপ্রশাসনে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ের হিসাব নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের বিধান থাকলেও গত ১০ বছরে তা মেনে চলা হয়নি। এছাড়া উহ্য থেকেছে জনসুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন। রাষ্ট্র পরিচালনার ভার থাকে রাজনৈতিক দলের হাতে। দলের দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা আর দায়বদ্ধতার উপর একটি রাষ্ট্রের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের তহবিল ব্যবস্থাপনা, কমিটি গঠন, কাউন্সিল অধিবেশনে শুদ্ধাচারের কোনো চর্চা নাই।
Recorded Lecture: https://www.youtube.com/watch?v=FzHtyxp4Uwo