বাংলাদেশের জননীতি প্রণয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ
মার্চ ১, ২০১৭

২৫৯তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার

বিষয়: বাংলাদেশের জননীতি প্রণয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ

বক্তা: মাশরুর শাকিল

তারিখ: ১ মার্চ ২০১৭

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্বতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। সংবিধানে উল্লিখিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ধারণাও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। অতীতে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল বার্তাবাহক। বর্তমানে রেডিও, টেলিভিশন, সাংবাদিকতা ও ইন্টারনেটের কল্যাণে গণমাধ্যম আরো ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে। 

মূলত বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরের হত্যাকান্ডকে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ড বলা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জুডিশিয়াল বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলা হয়েছে। গণতন্ত্রের একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের প্রসার হওয়ার সাথে সাথে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিপরীতমুখী। কারণ বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা যত বেড়েছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। বিষয় দুটি সমমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

২০০৩ সালে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন প্রণীত হয়। দায়মুক্তি আইনটি সম্পর্কে সে সময়ের গণমাধ্যমগুলো নীরবতা পালন করেছিল। সরকার র‌্যাব নামক একটি এলিট বাহিনী গঠন করেছিল। কিন্তু র‌্যাব গঠন সম্পর্কে তখনকার গণমাধ্যমগুলো কার্যকর কোন প্রতিক্রিয়া দেখাতে  পারেনি। বরং র‌্যাব গঠন করায় সরকারকে সাধুবাদ জানায়। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব গঠন একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, র‌্যাব গঠন করায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে গণমাধ্যম কার্যকর দায়িত্ব পালন করলে দেশের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড কমানো যেতে পারে।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক গণমাধ্যমের সঠিক নীতিমালা নেই। তাছাড়া বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশায় কোন ধরণের স্ট্যান্ডার্ড নিয়োগ প্রক্রিয়া তৈরি হয়নি। ফলে সাংবাদিকতা পেশাটিতে মানসম্পন্ন কর্মীবাহিনীর অভাব রয়েছে। যা গণমাধ্যমকে আরো কার্যকর করার পক্ষে এক ধরণের অন্তরায়।

cross-circle