স্বয়ংজাত সংবিধান: ‘রুল অব রিকগনিশন‘ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের নিজস্ব আইনব্যবস্থার উত্থান
মে ২৪, ২০২৩

৪৯১তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার

বিষয়: স্বয়ংজাত সংবিধান: ‘রুল অব রিকগনিশন‘ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের নিজস্ব আইনব্যবস্থার উত্থান

বক্তা: নাফিজ আহমেদ
প্রভাষক, আইন বিভাগ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

কোনো একটি দেশে বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থা কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে সমাজের সকল স্তরে এই আইন বৈধতা পায় তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দার্শনিক অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। আমেরিকান আইনবিদ হান্স কেলসেন তার বিখ্যাত The Purity of Law বইতে এ সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন, যার নাম Grundnorm Theory। এই তত্ত্ব মতে, বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন আইনি কাঠামো (লিগ্যাল সিস্টেম) তৈরি হয়। অর্থাৎ, একটি সিস্টেমের উপর অন্য একটি সিস্টেমের প্রতিস্থাপনের ফলে দেশে নতুন আইন তৈরি হয় এবং সময়ের বিবর্তনে তা বৈধতা পায়। আদিতে কল্পিত আইনকে এক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

বাংলাদেশের সংবিধান স্বয়ংজাত। এটি এমন একটি সংবিধান যার বৈধতা অন্য কোনো সংবিধান বা আইন দেয় না। H.L.A. Hart তার Concept of Law বইতে Rule of recognition তত্ত্ব প্রদান করেন। এই তত্ত্ব মতে, সামাজিক চর্চার ভিত্তিতে আইন তৈরি হয়।

বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার উদ্ভব ও বিকাশকে এই তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। ১৯৭১ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে গরিমসি শুরু করে। মার্চের ১ তারিখে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বিলম্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই প্রতিবাদে আন্দোলনে মুখর হয়ে উঠে বাংলাদেশের মানুষ। সরকারি অফিস থেকে রাস্তায় বের হয়ে আসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছাত্ররা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এককথায়, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আদেশকে অমান্য করা হয় এবং জনগণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার আসল উৎস মনে করতে থাকে। এভাবে Rule of recognition বা সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের ফলে উত্থান হয় বাংলাদেশের নিজস্ব আইনব্যবস্থার।

Recorded Lecture: https://www.youtube.com/watch?v=nDy62O3gqEA

cross-circle